Top Menu

Header Ads

একটি জীবন যুদ্ধের গল্প, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে এব! জাকির সফ্ট যেইভাবে শুরু হল।

Zakir Hossen
Zakir Hossen


 একটি জীবন যুদ্ধের গল্প, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে এব! জাকির সফ্ট যেইভাবে শুরু হল।


গল্পটা শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে, আসল কাহিনি ‍শুরু হয় ২০১৭ থেকে।


আমি গরিব ঘরের সন্তান আমার বাবা একজন রিক্সা চালক। আমার মা মানুষের বাসায় বুয়ার কাজ করে।


২০১৫ সালের এস এস সি পরিক্ষা দেওয়ার পর, আমি গ্রাম থেকে ঢাকা চলে আসি। ঢাকা এসে বুঝেতে পারি যে, আমি সেই গাইয়্যা ক্ষেত। দুনিয়ার অনেক কিছুই এখনও জানিনা, বুঝিনা। একটি উদাহরণ হিসাবে, আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম না, শার্ট কিনতে গেলে পছন্দ করতে পারতাম না, কোনটা নিব, কোনটা নিব না। টিশার্ট এবং শার্ট  ২ টা ২ জিনিস সেটাই জানতাম না। অনেক কিছু সম্পর্কে ধারনা ছিল না যেমন জীবনে কি করব, এস এস সি এর পর ক্যারিয়ার অপশন কি কি আছে।


কোন ভাবে ইন্জিনিয়ার ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে পারি। তারপর আমার বড়, জসিম ভাই(ফুফাত ভাই) এর সাহায্য নিয়ে ডিপ্লোমাতে ভার্তি হই। এই কিছুদিনে, জ্ঞানের পরিধি বাড়তে থাকে। আর পাশাপাশি আমি চাকরি খুজতে থাকি।


প্রতিদিন খবরের কাগজে, চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতাম, পরিচিত ভাইয়া, আপু সবাইকে বলেছি কোন একটা চাকরি ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোন ভাবেই কোন কিছু হয়নাই। তারপর নিজেই চাকরি খুজা শুরু করলাম এবং কয়েক জায়গায় গিয়ে ধরা খেলাম (মানে, দালালরা চাকরির কথা বলে, টাকা পয়সা মেরে দিছে)


অনলাইনে ইনকাম করা, ফ্রিল্যান্সিং, আউট সোর্সিং জনপ্রিয় এবং গরম শব্দ ছিল। ২০১৫ এবং ২০১৬ এর সময়ে. আমি ‍এইগুলো বন্ধুমহল এবং কলেজের বড় ভাইদের কাছ থেকে জানতে পারি।


কিন্ত টাকা পয়সার সমস্যার জন্য, কম্পিউটার কিনার সামর্থ্য ছিল না। একটানা ৩ মাস আম্মকে বুঝাইছি, কম্পিউটার লাগবে, নাহলে কম্পিউটার ইন্জিনিয়ারিং করে কোন লাভ হবেনা, কাজ শিখতে পারব না (সেই দিন গুলোর কথা মনে পরলে, মনের অজান্তেই চোখে পানি চলে আসে।


৩ মাস পর, আম্মু কম্পিউটার কিনে দেয়, সময়টা ছিল ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস (ডেল ল্যাপটপ কিনলাম, ৩২ হাজার টাকা দিয়ে, ইনটেল আই থ্রি, ৪ জিবি র‌্যাম, ৫০০ জিবি হার্ডডিস্ক)। কম্পিউটার কিনার পর, এক বড় ভাইয়ার কাছে কম্পিউটার বেসিক শিখার জন্য যাই। সে আমার কাছে ৮ হাজার টাকা দাবি করে, আমার মাথায় হাত। এতো টাকা কোন ভাবেই যোগার করা সম্ভব নয়।



হতাশ হয়ে নিজে নিজেই শিখা শুরু করে দিলাম। ব্যাপারটা হচ্ছে, শুধু কম্পিউটার কতদিন চালানো যায়? গ্রোথ এর কোন ফিল পাচ্ছিলাম না। ২ মাস পর ইন্টারনেট কানেকশন নিলাম (আম্মু কে বলে ইন্টারনেট বিল এর টাকা ম্যানেজ্ করলাম)


তারপর শুরু হয় যুদ্ধ, একদিকে কিভাবে ইনকাম করা যায় সেটা খুজতাম, অন্যদিকে কম্পিউটার নানান কাজ শিখার চেষ্টা করতাম। ইউটিউব এ অনেক ঘাটাঘাটি করার পর জানতে পারি, ইউটিউবিং, ব্লগিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা ইনকাম করতে পারব। একে একে অনেক কিছু চেষ্টা করলাম। কোন টা তেই তেমন কোন কিছু হয়নাই, শুধু হেরে যাওয়ার অভিগতা ছাড়া। মাঝখানে এলাকার একটা কম্পিউটার দোকানে ডুকলাম, কাজ শিখব (কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে) মালিক প্রথমে রাজি হয়নাই (কারন নতুন কোন লোক লাগবে না)।


এইদিকে আমি ফ্রিল্যান্সিং এর উপর মাস্টারি করে ফেলেছি, ঠিক করলাম ওয়েভ ডিজাইন শিখব (আইডিয়াটা পাইছি, এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে সাইট বানানোর সময়)। অনেক ট্রেইনিং সেন্টার এ গেলাম, কেউ ই শিখাবে না টাকা ছাড়া। নিজে নিজেই ইউটিউব থেকে অনেক কিছু শিখলাম। HTML, CSS দিয়ে কয়েকটা সাইট ও ডিজাইন করলাম। কিন্তু প্রফেশনাল লেভেল যেতে পারছিলাম না। সেই সুযোগ টা ক্রিয়েটিভ আইটি করে দিল, কিভাবে? বলছি...


একদিন, ইউটিউবে ফ্রিল্যান্সিং এর ব্যাপারে নিউজ দেখতেছিলাম, কে কেমন ইনকাম করতেছে। হটাৎ ক্রিয়েটিভ আইটির একটা ভিডিও পাইলাম স্টুডেন্ট সাকসেস স্টোরির, ”লার্ন আর্ন দেন পে” একটা প্রোগ্রাম ছিল তাদের। সেই প্রোগ্রামের  ২ বা ৩ টা ব্যাছ হয়ে গেছে, আরেকটা ব্যাচ শুরু হবে। আমি দ্রুত রেজিট্রেশন করলাম। সেমিনারে এটেন্ড করলাম, ইন্টারভিউ দিলাম। আমার কিছু কাজ জানা থাকার কারনে আমি সুযোগ টা পেয়ে গেলাম। সপ্তাহে ২ দিন ক্লাস ২ ঘন্টা করে। এর মাঝে আমার কম্পিউটার অপারেটর এর জব হয়ে গেল। 


এটাও একটু লম্বা গল্প কিন্তু সর্টকাট বলছি। ক্রিয়েটিভ আইটিতে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার দিন, আমার ছবি প্রিন্ট করাতে হবে (ছবি মোবাইল দিয়ে তুলে আমার ল্যাপটপে ফটোশপ দিয়ে ইডিট করেছিলাম), দুপুর বেলা দোকানে মালিক ছাড়া অন্য কেউ নাই, মালিক বল্লো পরে আসতে কিন্তু আমারা দ্রুত দরকার ছিল, তাই আমি বল্লাম আমি কাজ পারি আপনি কম্পিউটার অন করে দিলে প্রিন্ট করে নিতে পারব।  ‍এই দোকানে আবার কম্পিউটার অপারেটর লাগবে, ব্যাস কম্পিউটার অপারেটর এর কাজ পেয়ে গেলাম। ক্রিয়েটিভ আইটি থেকে এসে, ওইদিন সন্ধায় ১২০+ টাকা ইনকাম হল। ইনকামের ৫৫% ভাগ মালিকের, আমার ৪৫% ভাগ।


২ মাস এইভাবে করার পর আর ভাল লাগছিল না, সারাদিন দোকানে বসে থাকা আর কাজ করা, পাশাপাশি ওয়েভ ডিজাইন শিখা, ক্লাস করা, প্র্যাকটিস করা। জব ছেড়ে দিয়ে মন দিয়ে ক্লাস করতে থাকলাম। 



গরিবের ঘরের সন্তান হওয়ায়, পরিবারের অবস্থা অনেক খারাপ ছিল, বাসায় প্রায় প্রতিদিন ‍আব্বু আম্মুর জগরা করত। আমরা ৩ ভাই, ‍আমি সবার বড়। ৩ ভাইয়ের পড়াশুনার খরচ, খাওয়া দাওয়া, ঘর ভাড়া। টাকা পয়সা নিয়ে সমস্যা হত। আমার আব্বু আম্মু সকাল ৫টা থেকে রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত কাজ করত। বাসাই এসে, একটা কিছু উলটা পালটা হলেই রেগে যেত। 


আমি আবার এইটা সয্য করতে পারছিলাম না। কিভাবে পারব? এইভাবে কতদিন? একদিকে পরিবারের সমস্যা, অন্যদিকে চাকরি নাই, আরেকদিকে কলেজ, আরেকদিকে ওয়েভ ডিজাইন, আমার কাছে বেষ্ট অপশন মনে হল - ওয়েভ ডিজাইন। আমি অনেক চিন্তা ভাবনা করে পরিবারে জানাইলাম - আমি আর পড়াশুনা করব না। আমি ওয়েভ ডিজাইন শিখব, কাজ করব, ফ্যামিলি কে হেল্প করব। আমার যতটুক হয়েছে সেটা দিয়ে আমার জীবন চালাতে পারব। প্রথমে বুজািইছি মেনে নেয় নাই, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে গেছে। 


ক্রিয়েটিভ আইটিতে ক্লাস চলাকালীন সময়ে, তাদের অনেক ব্যাচ থাকার কারনে প্রায়ই ফ্রিল্যান্সিং এর ক্লাস হত, আমিও একদিন ফ্রিল্যান্সিং ক্লাস করলাম। আর ফাইবারে একাউন্ট খুলে ফেললাম। ওয়ার্ডপ্রেস এর উপর কাজে পেয়ে গেলাম। (ওয়েভ ডিজাইন এখনও শেষ হয়নাই)


তারপর শুরু হল ফ্রিল্যান্সিং লাইফ, ৪/৫ মাসে ১৫৯ ডলার ইনকাম করেছিলাম সর্বমোট (ফাইবার ২০% চার্জ চাড়া)। এই লাইফ এর ভাল লাগছিল না।


রেগুলার কাজ না পাওয়া, কাজ পাইলে ক্লাইন্ট এর পেরা, রাত জেগে থাকা। তারপর ডিসাইড করলাম, জব করব। জব খুজা ‍স্টার্ট করলাম। ২/৩ মাস হয়ে গেলে, পাচ্ছিলাম না।


একদিন ফেসবুকে এর এক গ্রুপে b-cause inc এর একটা জব পোষ্ট পাইলাম। ট্রেইনি ওয়েভ ডিজাইন। ইংলিশ জানতে হবে। আমি ইংলিশে কিছুটা পারতাম। সাহস করে সিভি পাটাইলাম। (কম্পিউটার অপারেটর ছিলাম বলে, ভাল সিভি বানাইতে পারতাম)


ইন্টারভিউ এর দিন, ফ্রাইডে, অনেক নারভাস ইন্টারভিউ হল, ভাইয়া আমাকে অনেক গুলো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল, বেশির ভাগ গুলোর উত্তর দিলাম। তখন আমার নিজের পোর্টপলিও সাইট ছিল আর ফাইবার প্রোফাইলে ভাল রিভিও ছিল। যেইদিন ইন্টাভিও ছিল এর আগের দিন রাতে এক ক্লাইন্ট রিভিও দিল ( Zakir is the Best seller on fiverr market) সেলার হল - আমি ওয়েভ ডিজাইন এবং ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েভসাইট ডিজাইন সার্ভিস বিক্রি করতাম।


সেইটা দেখে, মনে হয়, নাঈমুর ভাই ইমপ্রেস হয়েছিল। তাই জব টা পেয়ে গেলাম।


প্রথম ৬ মাস, ১০ হাজার বেতন, তারপর পার্মানেন্ট হলে ২০ হাজার। শুরুতে অন্যান্য সব কিছু মিলিয়ে আমি ১৩+ পাইতাম। ফেমিলি তে বলার পর, ফ্যামেলি এবং আশে পাশের কেউ ই বিশ্বাস করে নাই। (করলে করুক না করলে আমার কি? আমি গল্প নিয়ে এগিয়ে যাই, কি বলেন আপনারা?)


অভারওল সব কিছু ভাল ছিল, প্রথম কয়দিন মজা লাগতেছিল। ১৫/২০ দিন পর থেকে ঠেলা বুঝতে পারছিলাম। কষ্ট করে ৬ মাস করার পর। পার্মানেন্ট হয়ে গেলাম। খুশির ঠেলায় সবােই কে মিষ্টি খাওয়াইলাম্


এখন বেতন ২৩ হাজার(সব মিলিয়ে) জব এর পাশাপাশি PHP, MySQL, ওয়েভ ডেভেলপমেন্ট শিখতে ছিলাম আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রজেক্ট টা আবার শুরু করলাম। 


এফিলিয়েট এ তেমন ভাল করতে পারছিলাম না। তবে আমি ভাবছিলাম আমি ভাল করতে পারব। যারা জানেন না। তাদের বলে দেই ইনকাম ২ রকমের, একটা একটিভ এবং আরেকটা প্যাসিভ।


একটিভ ইনকাম: আপনি যতক্ষন করবেন, তথক্ষন ইনকাম আসবে, আপনি কাজ বন্ধ করে দিলে আর ইনকাম আসবে না। 

প্যাসিব ইনকাম: প্যাসিব মানে আপনি বসে থাকলেও টাকা ‍আসবে। যেমন -> আপনি সফটওয়্যার বানাইলাম,একবার বাট ওইটা বিভিন্ন কোম্পানি তে সেল করলেন বার বার, যেমন উইন্ডোজ, অথবা আপনি একটা বই লিখলেন একবার ওইটা বার বার বিক্রি করলেন।


আইডিয়া ছিল, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রজেক্ট সাকসেস  হলে, অটোমেটিক ইনকাম আসতে থাকবে, যেইটা দিয়ে আমার খরচ হয়ে যাবে, আর আমি ফুল টাইম দিয়ে ডেভেলপমেন্ট শিখব। কিন্তু চাকরি এবং এফিলিয়েট প্রজেক্ট ২ টা একসাথে করতে পারছিলাম না। আর জব থেকে নতুন কিছু শিখতেই পারছিলাম না। তাই জব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম( ২০১৮ সালের আগষ্ট) সবাই না করে ছিল, এতো ভাল জব না ছাড়ার জন্য। কিন্তু, আমি মটিভেশনাল ভিডিও দেখে, অনেক বেশি মটিভেটেড হয়ে গিয়েছিলাম, যে আমি সব করতে পারব। 


তাই জব ছেড়ে দিলাম, ২.৫ মাস ফুল টাইম এফিলিয়েট মার্কেটিং করলাম। কিন্তু তেমন কোন রেজাল্ট পাই নাই। এক জন এফিলিয়েট মার্কেটারের সাথে কথা বললাম, সে বল্ল, আমার আর্টিকেল গুলোতে সমস্যা, আর্টিকেল রাইটার হায়ার করে, আর্টিকেল লিখাতে হবে এবং এস ই ও ভাল করে করাতে হবে। যেইটাতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ পরবে। তাই টাকা না থাকায়, প্রজেক্ট বন্ধ করে দিলাম।


মন দিলাম, ডেভেলপমেন্ট শিখাতে, গত ২.৫ মাস ও শিখছি, কিন্তু অল্প অল্প। এইবার ফুল টাইম শিখা শুরু করলাম। এইভাবে সর্বমোট ৫ মাস পর ফেব্রয়ারিতে ২০১৯ আবার ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলাম নতুন এক্যাউন্ট দিয়ে। পেমেন্ট রিলেটেড কিছু ঝামেলার জন্য এইবার, পাসপোর্ট, পেপাল, পায়োনার একাউন্ট, মাস্টার র্কাড একাউন্ট খুললাম। (আগের ফ্রিল্যান্সিং একাউন্ট সাসপেন্ড হয়ে গেছে)


২০১৯ সালের এপ্রিলে আমার কাজের জন্য, আরেকটু ইমপ্রোভড জায়গার দরকার ছিল। তাই আমি ফ্যামিলি কে বলে, সাবলেটে উঠে গেলাম। (প্রথমে মেনে নেয় নাই, কিন্তু বুঝিয়ে সুঝিয়ে ম্যানেজ করে নিলাম)


এক বড় ভাই, সে গ্রাফিক্স ডিজাইনার (UI/UX)। জব করে, তার সাথে প্রায় ৮/৯ মাস ছিলাম। ৯ মাস ভালই ছলছিল, ভালই কাজ করলাম, আরো এডভান্স কিছু কাজ শিখলাম। আরো কিছু অফ টপিক প্রজেক্ট করলাম যেমন চায়না থেকে প্রডাক্ট কিনে এনে বিক্রি করা।


২০২০ সালের ফেব্রয়ারী তে, আব্বু আম্মু কে বলে ম্যানেজ করলাম ফ্ল্যাট নেওয়ার জন্য। তারা ভয় পাচ্ছিল, ফ্ল্যাট এর এতো খরচ। আমি বল্লাম, ফ্ল্যাট রেলেটেড যত খরছ আছে। সব আমি দিব। কিন্তু আমি চাই, তোমরা একটা ভাল পরিবেশে থাকো। পাশাপাশি আমার কাজ এর জন্যও রিলাক্স এন্ভাইরনমেন্ট। 


তাই, উটে গেলাম। আলহামদুলিল্লাহ, এই বছর ই বাহিরের ৪ টা কোম্পানি এর সাথে কাজ করেছি। এতো দিনে বন্ধু মহলে সবাই আমার ব্যাপারে মুটামুটি জানে, আমি কি কাজ করি। ২০১৯ থেকেই নতুনদের ওয়েভ ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট শিখতে সাহায্য করতাম। এই বছর আমার বন্ধু খাইরুল আসছে আমার কাছে, লারাভেল শিখার জন্য। খাইরুলকে শিখাইতাম,  প্রায়ই আমরা টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো নিয়ে আলোচনা করতাম।


আমি যেই রুমে কাজ করি, সেই রুমে আমার বেড + কম্পিউটার ডেস্ক এবং আমার সাথে ২/১ জন বাসায় আসলেই, রুমে জায়গা হয়না। একদিন হটাৎ ভাবলাম, অফিস নিলে কেমন হয়. ভাবতে দেরি কাজ শুরু করতে না। 


কারন এর মাঝে আমি অনেক কিছু ভাবছি, এইটা করব। সেইটা করব। কিন্তু শুরু না করলে কোনো কিছুই হয়না। এইরকম করে, ২০১৯ সালে অফিস শুরু করার প্লান করেছিলাম কিন্তু করতে পারি নাই।


এর মাঝে, আমি প্রচুর বিজি ছিলাম প্রজেক্ট নিয়ে। রেগুলার ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টা কাজ করছি, ২/৩ মাস। তাই আমার সাথে কাজ করার জন্য একজন ডেভেলপার হায়ার করি। (২৫ হাজার বেতন দিয়ে)। সে রিমোট তার বাসা থেকে কাজ করত, সবকিছু মিলিয়ে এতো টাকা বেতন দিয়েও আউটপুট ভাল পাইনাই। তার কাজের স্ট্রাকচার ভাল ছিল না। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত খারাপ অভিজ্ঞতা। এটা ঠিক করতে এবং কাজের জায়গা বাড়াতে অফিসের প্ল্যানিং করলাম। 


তাই অফিসের এর কাজ করা শুরু করে দিলাম, প্রথম লক্ষ্য স্টুডেন্ট শিখাবো এবং সফটওয়্যার কোম্পানি থাকলেও পরে শুধু সফ্টওয়্যার কোম্পানি হিসাবে কাজ শুরু করি।










সাথে আমাকে  Khayrul, Sani, সাহায্য করেছে।

আমার টিমে, আমি সহ ৯ জন আছে, ৩ জন ফ্রন্টএন্ড ডেভেলপার, ৩ জন ব্যাকএন্ড ডেভেলপার।  ১ জন মোবাইল এপ্লিকেশন ডেভেলপার, ১ জন গ্রাফিক্স ডিজাইনার (আমার আপন ছোট ভাই)।


আমাদের দেশ, এখনও টেকনোলজি ভাল করে ইউটিলাইজ করতে পারছি না। আবার আমাদের ওয়েভ ডেভেলমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রি অনেক এলোমেলো, অনেক কোম্পানি এর এখনও ওয়েভসাইট নাই, থাকলেও তেমন ইমপ্রোভ না। লেটেষ্ট টেকনোলজি নিয়ে কাজ খুবই ই কম। তাই আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতেছি যে, কান্ট্রিওয়াইড, কোয়ালিটি ওয়েভসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইড করা। লেটেস্টে টেকনোলজি নিয়ে কাজ করা, এবং আমরা সফটওয়্যার/ওয়েভ এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট এর উপর কাজ করতেছি। 


আমরা এই পর্যন্ত আসার পিছনে, অনেক সাপোর্ট রয়েছে, অবশ্যই তার মধ্যে আমার আম্মু, আব্বু রয়েছে, এছাড়াও  কয়েক জনের নাম না নিলেই নয়। 


Joshim Ahmed (Fufato vai)

Sakiba Irin (Creative IT Teacher)

Saidul Islam Uzzal (Creative Shaper)

Monir Hosen (Chairman & CEO)

Naiyeemur Rahman (Senior Frontend Developer, b-cause inc.)


এছাড়াও, ভাইয়া, আপু, আঙ্কেল, আন্টি অনেকেই অনেক ভাবে সহোযোগিতা করেছেন। তাদের সবাইকে মনের গভীর থেকে শুকরিয়া জানাই। 


এই ছিল আমার লাইফের এর ছোট গল্প আর ছোট এচিভমেন্ট নিয়ে লেখা। সবার কেমন লাগলে জানাবেন। 


আর গল্পটা ভিডিও রেকর্ড করতে চাচ্ছিলাম, সেটা কেমন হবে। আপনার মতামত জানালে খুশি হব।


সবাই আমার আব্বু আম্মুর জন্য দোয়ার করবেন। Zakir Soft এর জন্য সবার কাছে দোয়ার কামনা রইল। 


অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে স্বপ্ন দেখে যাচ্ছি। সবার দোয়া ও সাপোর্ট কামনা করছি। 



Post a Comment

1 Comments

  1. সঙ্গ্রাম এর ছিল আপনার জীবন কাহিনীটা, ভাই আমিও করতে চেয়েছিলাম ১৭ সাল থেকেই শুরু করেছি বাট সঠিক দিক নির্দেশনা না পাবার কারনে এগোতে পারি না, তাই পিছি আর নেট কানেকশন এমনিতেই পরে আছে, কম্পিউটার সপ্তাহে ১ বারও অন করা হয় না এখন 😐 কি রেখে কি করব এখনও জানি না!!

    ReplyDelete